Anxiety

Anxiety — in Bengali — Adapted by Sreyoshi Bose

ভয় আমাদের মনের আদি (মুখ্য) অনুভূতিগুলির মধ্যে একটি। মৌলিক এই ভীতি সমস্ত প্রাণীর মধ্যেই সহজাত প্রবৃত্তি রূপে বর্তমান। এটি আত্মরক্ষা এবং অস্তিত্ব অব্যাহত রাখার মনোবৃত্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ কোনো “বিপদের আশঙ্কা” এই ভীতির অনুভূতিটিকে সক্রিয় করে এবং আমাদের মধ্যে হয় “লড়াই” নাহয় “আতঙ্কে নিশ্চল” নাহয় “পলায়ন” আচরণের চালনা করে। 

উদ্বেগ বা দুর্ভাবনা হল এই ভয় বা আতঙ্কের হীনতর বা কম তীব্র অনুভূতির প্রকাশ। উদ্বেগ অনুভূত হয় ক্রমাগত চলতে থাকা, অস্পষ্ট কোনো বিপদের আশঙ্কা হিসেবে, অতি সাবধানতা সহ।

মানসিক বিভ্রান্তি বা মন বিক্ষিপ্ত থাকার অনুভূতি(মনযোগ নষ্ট হওয়া) এবং সর্বক্ষণ নির্দিষ্ট কিছু নিয়ে ভাবতে থাকার (উৎকণ্ঠা ও প্রতীক্ষা) অনুভূতি দেখা দিতে পারে, সর্বক্ষণ মনে হতে পারে যেন  “খারাপ কিছু ঘটবে” বা “হয়ত শোচনীয় কোনও ভুল করে ফেলব”। উদ্বেগের তীব্রতা (অল্প থেকে বেশী) ছাপ ফেলে শরীর ও মনের বিভিন্ন ক্রিয়ার ওপর। উদ্বেগ প্রায়শই বহু-স্তর সম্পন্ন হয়, যেমন সচেতন (জানা), অবচেতন (যা কেবল মাত্র নিবিড় অন্তর্দর্শন দ্বারা জানা সম্ভব), এবং অচেতন (মনযোগ সাহায্য করতে পারে)।

প্রভাবঃ

মনের ওপর (মানসিক)- এর কারণে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কাজে একাগ্রতা কমে যায়, মনে নৈরাশ্য ও বিরক্তি ছেয়ে থাকে, কোনও কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে, নির্ভাবনায় আরাম করা বা রিল্যাক্স করা যায়না, ঘুমনো যায়না বা ঘুমোতে পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম ভেঙ্গে যায়, সহজেই মানসিক ভাবে নিঃশেষিত লাগে।

শরীরের ওপর (দৈহিক) – সহজে ক্ষুব্ধ, হৃতস্পন্দনের গতি বেড়ে যাওয়া, মাংসপেশীতে চাপা ব্যাথা বা টান, পেটে অস্বস্তি, মাথাব্যাথা, ইত্যাদি।

উদ্বেগ কিভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায়?

ভীতি বা উদ্বেগ পুরোপুরি পরিহার করা যায় না।  চেষ্টা এবং মনোযোগ হওয়া উচিৎ এই অনুভূতিগুলির তীব্রতা কম করার। লক্ষ্য হল এর তীব্রতার স্তর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

অনুধ্যান, অন্তর্বীক্ষণ, কর্ম, এবং পারস্পারিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সবই নির্ভর করে সচেতনতার ওপর। কোনও কিছু নিয়ন্ত্রন করতে গেলে আগে তা নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

উদ্বেগের প্রকৃতি জানুন – ভাবুন। “আমার উৎকণ্ঠার কতটা সচেতন (আমার জানা)”? “কী কী আমার অজানা?” “আমার জ্ঞানমতে, এই উৎকণ্ঠা কি কোনও নির্দিষ্ট ভয়ের সাথে জড়িত না কি সাধারণ অনির্দিষ্ট বিভিন্ন ভয়ের সাথে জড়িত?”

• কারণ বিশ্লেষণ করুন

• অনিদ্রা অবস্থার মূল্যায়ন করুন

• ধ্যান করুন

• কথোপকথন-ভিত্তিক চিকিৎসা বা টক থেরাপির সাহায্য নিন

• ডাক্তারি চিকিৎসা

• যোগাসন 

• শখ বজায় রাখুন

• আপনার অভিজ্ঞতা লিখে রাখুন। যেই নির্দিষ্ট ভাবনা ও অনুভূতিগুলি উদ্বেগ বাড়ায় সেগুলি চিহ্নিত করুন। আপনার কিসে কিসে জড়াতে ভালো লাগে না তা চিহ্নিত করুন। বাহ্যিক সামাজিক পরিস্থিতি ও আপনার উদ্বেগের মধ্যে কী ধরণের যোগাযোগ আছে তা পরীক্ষা করে দেখুন। কারণ, অভিজ্ঞতা, আপনার পরিহার-প্রবণতা ও পরিস্থিতির মধ্যে সংযোগটুকু চিহ্নিত করুন।

• ঘুমের ওপর এর প্রভাব লক্ষ্য করুন। বিছানায় শোওয়ার এক ঘন্টা পরেও যদি ঘুম না আসে এবং মাথায় সারাদিনের বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা বা আশঙ্কা হতে থাকে বা মনে প্রশ্ন আসতে থাকে বা পরের দিনের জন্য দুশ্চিন্তা হয় তবে অনিদ্রার জন্য পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন। অনিদ্রা উৎকণ্ঠাকে আর বাড়িয়ে তোলে।

• মন ঘুরিয়ে দেওয়া একটি এড়াবার পন্থা মাত্র, সমাধান নয়। এতে আপনার তাতক্ষনিক ভাবে উদ্বেগের তীব্রতা কমবে এবং সমস্যাটির সমাধানের উপায় খোজার জন্য আপনি কিছুটা সময় পাবেন, এটুকুই। উৎকণ্ঠার সমস্যা ফেলে রাখলে ক্রমে তা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

• যোগাসন – নিয়মিত যোগাসন করলে মাংসপেশী ও গ্রন্থি দৃঢ় হয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্রিয়ায় নিঃশ্বাস প্রশ্বাস, রক্ত চলাচল ও বিপাক ক্রিয়া উন্নত হয়। প্রাণায়াম মস্তিস্কের কোষ ও স্নায়ুসমূহের ক্রিয়া ও স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করে।

• ধ্যান – নিস্তব্ধতা (ভাবলেশহীন অবস্থা নয়, অচেতন অবস্থা নয়, একাগ্রতা নয় ) দেহ-মনের প্রশান্তি বা আরামের জন্য একটি মূল উপাদান। ধ্যানের প্রতিটি সফল অধিবেশন দেহ এবং মনকে ভিত ছুঁতে সাহায্য করে।

• ডাক্তারি চিকিৎসা – আলোপ্যাথি (তাতক্ষনিক উপষম), আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি, প্রাকৃতিক চিকিৎসা (অন্তর্বর্তী ও দীর্ঘকালীন নিয়ন্ত্রন)

• মনোচিকিৎসা (কাউন্সেলিং) / থেরাপি – সচেতন এবং গভীরে অবস্থিত (অবচেতন এবং অচেতন) উদ্বেগসমূহ জানা যায়। এর জন্য প্রয়োজন অন্তর্বীক্ষণ। লক্ষ্য হল উতকন্ঠার চেপে রাখা উতসের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো।

Click for English Version                                                                           Click for Tamil version

One thought on “Anxiety”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *